Tuesday, 30 June 2026

কেন হে লেনিন তুমি ধর্মতলা মাঝে ?


কেন হে লেনিন তুমি ধর্মতলা মাঝে ?

●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●


প্রশ্ন উঠেছে কলকাতায় লেনিনের নামে কেন রাস্তা থাকবে ? লেনিন কি কোনদিনও ভারতে এসেছিলেন, নাকি ভারতের ইতিহাসে সাথে তিনি কোনভাবে ব্যক্তিগত স্তরে সম্পৃক্ত ? ভারতের জাতীয়তাবাদের অভ্যূত্থানে তাঁর কি অবদান ? 


উত্তর আছে বইকি | এর কারণ ভারতবর্ষের মার্ক্সবাদীরা জাতীয়তাবাদী নন | তাঁরা আন্তর্জাতীয়তাবাদী | তাঁদের বিশ্ববোধের অন্যতম জনক, সমাজবিপ্লবের পথপ্রদর্শক, ভ্লাডিমির ইলিচ উলিয়ানভ, ওরফে, লেনিন | 


আন্তর্জাতিক গণবিপ্লবের অন্তর্গত দেশে দেশে গণবিপ্লবের সংঘটন | এর জন্য চাই প্রচার, monumental revolution যার অন্তর্ভুক্ত, যার স্থাপক স্বয়ং লেনিন রাশিয়াতে যেখানে তাঁর নির্দেশে রাজপথে জারের সমস্ত মূর্তি ভেঙে ফেলা হয় | পরবর্তিকালে সে সব স্থানে লেনিন, স্টালিন, মার্ক্সাদির মূর্তি বসে | সেইন্ট পীটর্সবর্গের নতুন নামকরণ হয় লেনিনগ্রাদ যদিও সোভিয়েত রাশিয়ায় কমিউনিজমের পতনের পর তা পুনরায় পুরোনো নাম ফিরে পেয়ছে | 


এই সব নামকরণাদি ত' জনতার মনে বিশেষাদর্শের ছাপ ফেলার সুপরিকল্পিত কৌশল | 


ঠাকুর বলতেন, "মন ধোপাঘরের কাপড় | যে রঙে ছোপাবে, সেই রঙে ছুপে যাবে |" অর্থাৎ, মানুষের মস্তিষ্কের ধূসর অংশকে, মানে ঘিলুকে, তথ্যদ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা যায় | শিক্ষা তারই সাক্ষ্য বহন করে | বিবর্তন তথা ক্রমবিকাশও পরিবেশ হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার শৃঙ্খলে নিয়মিত, নিয়ন্ত্রিত | 


মস্তিষ্ক সঞ্চালনের এই বিধিটি ইসলাম চমৎকার ব্যবহার করেছে একেবারে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত | মার্ক্সবাদও এটি নব নব কৌশল অবলম্বন করে এ যাবৎ করেছে, করে চলেছে | এর নাম মগজ ধোলাই | মনে পড়ে সত্যজিৎ রায়ের 'হীরক রাজার দেশ' চলচ্চিত্রে মগজ ধোলাইয়ের জাদুঘর ? ওই রকমই দেশে দেশে যুগ যুগ ধরে চলেছে, চলছে | এর নাম গণসম্মোহন যার শৃঙ্খলমোচনের নামও আবার বিপ্লব যা কিনা ফিরে সেই পথই অবলম্বন করে নিজমত জনমানসে স্থায়ীভাবে মুদ্রিত করার জন্য | তাই রাস্তার নামকরণ লেনিনের নামে | লেনিন, মার্ক্স, হো চি মিন, এই সব কমিউনিস্ট আইকনদের ভাবনা চিন্তা এভাবেই প্রত্যহ ব্যবহারের দ্বারা মানুষের মনে ঢুকিয়ে দেওয়ার অতি প্রাচীন কৌশল | 


রচনা : সুগত বসু (Sugata Bose) 

No comments:

Post a Comment