EPISTLES TO 'DISCIPLES': DIGANTA SENGUPTA ... 1
EPISTLES TO 'DISCIPLES':
DIGANTA SENGUPTA ... 1
পত্র ... ১ ১৪.১০.২০২৫
পরম স্নেহাস্পদেষু দিগন্ত,
জীবনের উদ্দেশ্য ঈশ্বরলাভ, অর্থাৎ, আত্মজ্ঞানলাভ | এই রকমই বলেছেন ঠাকুর | সমস্ত কর্ম তাই চিত্তশুদ্ধির নিমিত্ত সম্পাদন করাই ধর্ম | কর্মের ফল আছেই---শুভ কর্মের শুভ ফল, অশুভ কর্মের অশুভ ফল | এই কর্মবিধান অলঙ্ঘনীয় | একমাত্র অবতারকৃপায় এর হাত থেকে নিমেষে নিস্তার পেতে পারে জীব, নচেৎ নয় | কর্মশৃঙ্খল হতে মুক্তি বাসনা নির্মূল না হলে হবার নয় কারণ বাসনাই কর্ম প্রস্তুত করে | কর্মের এই ধারা জন্ম, জীবন, মৃত্যু, পরে পুনঃপরিক্রমণ এই ধরাধামে | এই রকম চলতেই থাকে যতদিন না বিষয়ভোগে বিতৃষ্ণা জাগে | বিষয়রাগ দূর হলে ভগবদানুরাগ স্বতঃই প্রকাশিত হয়ে পড়ে হৃদয়ের গহন হতে | তখন উলটো পথে গমন শুরু হয় যার নাম বৈরাগ্য |
আজ এই পর্যন্তই থাক | ভগবানকে কেন্দ্র করে জীবন গড়ে তোলো | ভাল থেকো | ঠাকুর-মা-স্বামীজী কল্যাণ করুন |
ইতি,
আশীর্বাদক,
সুগত বসু
পত্র ২ :
পরম স্নেহাস্পদেষু দিগন্ত, ১৭.১০.২০২৫
তোমার আগ্রহ দেখে দ্বিতীয় পত্র লিখছি | জীবনে স্বাস্হ্যই পরম সম্পদ | ইংরেজিতে বলে, health is wealth. স্বাস্থ্যটি ঠিক থাকলে সব ভাল | ওটির ওপর দৃষ্টি রাখবে | জীবন এক লম্বা দৌড়, marathon race. সব শক্তিটুকু শুরুতেই শেষ করে ফেললে চলবে কেন ? শক্তিলাভ করা চাই | শক্তি সংরক্ষণ করা চাই | শক্তির যথোচিত ব্যবহারে তা ব্যয় করা চাই | এই ত' ধর্ম | যৌবনে ব্রহ্মচর্য তাই অপরিহার্য | অখণ্ড ব্রহ্মচর্য পালনে মহাশক্তির উদ্বোধন হয় | পরে সেই শক্তিই জীবনচালনায় সহায়তা করে---কর্মে, ধর্মে, ভোগে, যোগে জীবের রসদরূপে কাজ করে | পবিত্রতার ওপর তাই সনাতন ধর্মের এত জোর দেওয়া | বিবাহপূর্বকাল পর্যন্ত অখণ্ড ব্রহ্মচর্য কর' | স্বামীজীর বই পড় সাথে সাথে | জীবন সার্থক হবে | আমার আশীর্বাদ ত' সবসময় তোমার ওপর বর্ষিত হচ্ছে, হবেও---এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকো |
জীবন মহা মূল্যবান বস্তু | সময় সীমিত | সদ্ব্যবহার কর' | আজ এই পর্যন্ত | কর্মে সফলতা আসুক | জীবন ধন্য হ'ক | ঠাকুর-মা-স্বামীজী সহায় | তাঁদের শরণে থাকো | সব মঙ্গল হবে |
ইতি,
সুগত বসু
পত্র ৩ :
স্নেহের দিগন্ত, ২৯/১০/২০২৫
অনন্ত সম্ভাবনাময় রামধনুরঞ্জিত গগনস্পর্শী প্রসারিত দিগন্ত যে, তার জন্য সামান্য পত্রপ্রেরণ অসম্ভব হলেও হতে পারে, এমন অসম্ভব কথা কেমন করে সম্ভব হল তোমার ওই সুসংস্কৃত বচনে, তাই ভাবছি | বুঝেছি, আমার ভাষণটি ভাল লেগেছে, তাই সঙ্কোচপূর্ণ প্রত্যাশা | এ যেন বৈপরীত্যের সমন্বয় ভাবের গভীরে যেখানে সমরস বিরাজিত বক্ষে |
তোমাদেরই ওপর আশা ছিল স্বামীজীর ভারতের ভাগ্য পরিবর্তন করবে বলে, তাঁর বাণীর সার্থক রূপায়ণের দ্বারা | সে যুগে মহাপ্লাবন বয়েছিল স্বামীজীর ব্যক্তিত্ব ও বাণীর প্রভাবে অবিভক্ত বাংলা ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে | মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাত ও পাঞ্জাবেও রোল উঠেছিল | সমগ্র ভারত ক্রমে উত্তাল হয়ে ওঠে | বৃটিশের ঘুম ছুটে যায় |
দেহ যাবার ছ'মাস আগে হেদুয়া পার্কের ধারে বাল্যবন্ধু ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়কে সজলচক্ষে বলেছিলেন, "ভবানী ভাই, আমি আর বাঁচব না | এখনও অনেক কাজ বাকি |" ঠাকুর ভারত উদ্ধারের যে ভার দিয়ে গিয়েছিলেন প্রিয় শিষ্য নরেনের কাঁধে, তার অসমাপ্ত অধ্যায়ের কথা ভেবে অস্থির হয়েছিলেন সপ্তর্ষিমণ্ডলের এই ঋষিপ্রবর, আমাদের স্বামীজী |
দেহ যাবার পাঁচ মাস আগে বললেন, "দৈবদুর্বিপাকে যদি বা দেহ হ'ল কিন্তু কোন' কাজে লাগল না | মাথাওয়ালা ছেলেগুলো সব বে করে বসে আছে, নইলে মানযশখ্যাতির দাস, নয় শরীর অপটু | আর যারা আসছে, তারা উচ্চ উচ্চ ভাবগ্রহণে সমুৎসুক নয় | এই দেখে মন হতাশায় ভেঙে পড়ে | তবে হ্যাঁ, যদি ঠাকুরের ইচ্ছা হয় ত' এদেরই মধ্য থেকে কালে সব মহাবীরের জন্ম হবে |"
৪ঠা জুলাই, ১৯০২ সালে চলে গেলেন স্বামীজী যুগধর্মসংস্থাপনকর্ম অসমাপ্ত রেখে | কার জন্য, দিগন্ত ? কার ওপর ভরসা করে মায়ের কোলের ছেলে শিশুর ক্রন্দন করে রাত ৯:১০ মিনিটে অখণ্ডের ঘরে ফিরে গেলেন ? ভেবেছ কখনও ? ভাবো | আমি এ জীবন দিলাম স্বামীজীকে | তুমিও কি দেবে না ? তাঁর অসমাপ্ত কাজে সেতুবন্ধের কাঠবিড়ালীর ভূমিকা পালন করবে না ? মহাযুগচক্র ঘূর্ণন করে গেছেন ঠাকুর | এর গতি অপ্রতিরোধ্য | এসো, এই রথের দড়ি ধরে আমরাও টানি সনাতন ধর্ম-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের রক্ষণকল্পে, দানবকে মানবে রূপান্তর, মানবকে দেবতায় আর দেবকে ব্রহ্মর্ষিপদে আসীন করার পূত অভিপ্রায়ে | 🕉
ভাল থেকো | ঠাকুর-মা-স্বামীজীর চরণাশ্রিত থাকো আজীবন | জীবন ধন্য হ'ক !
আশীর্বাদান্তে,
সুগত বসু
পত্র ৪ :
স্নেহের দিগন্ত, ৭/১/২০২৬
স্বামীজীর বই পড়ো যত পারো | চরিত্র গঠন হবে | কাজ ত' থাকবেই, থাকা ভালও | কিন্তু গঠিতচরিত্র, ঋজু মেরুদণ্ড অপরিহার্য | স্বাস্থ্যটি ভাল রাখা চাই | জীবনে লম্বা দৌড় ভুললে চলবে না | তাই বিবাহপূর্বকাল পর্যন্ত অখণ্ড ব্রহ্মচর্যপালন আবশ্যক | এতে জীবন, যৌবন উভয়ই সুন্দর হয়, বিবাহ মধুর ও সন্তানসন্ততী উন্নত হয় |
ভগবানলাভের জন্যই জীবন, আর কোন' অন্তীম উদ্দেশ্য নেই | তাই পবিত্রতার ওপর এত জোর দিয়েছেন মুনিঋষিরা, মহাপুরুষসকল | স্বামীজী বলেছেন, "Brahmacharya is the key and cornerstone of religion and it is the key and cornerstone of education as well."..."বারো বছর নাগাড়ে ব্রহ্মচর্য করলে মেধা নাড়ী জন্মায়" যার দ্বারা ব্রহ্মানুভূতি সম্ভব হয়, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়, বুদ্ধি ঝলমলে পরিষ্কার হয়, মায়ারাহিত্য আসে ও জীবনের অভিষ্টসিদ্ধি হয় | এই বর্হ্মচর্যই তাই সনাতন ভারতের আদর্শ, যোগে এবং ভোগে |
ষড়চক্রের প্রথম তিনটি হল ভোগের | পরের তিনটি যোগের | তন্ত্রমতে মূলাধার, স্বাধিষ্ঠান, মনিপুর, অনাহত, বিশুদ্ধ ও আজ্ঞা চক্র | এর ঊর্ধ্বে আছে বেদনির্ণীত সপ্তম ভূমি, সহস্রার | সাধারণ মানুষের মন মূলাধার, স্বাধিষ্ঠান ও মনিপুর চক্রে অবস্থান করে | তাই দেহসম্ভোগে আসক্তি | আধ্যাত্মিকতা শুরু হয় হৃদয়ে অবস্থিত অনাহত চক্রে মন উঠলে | স্বামী অশোকানন্দ বলেছেন প্রতিটি ভক্তের চেষ্টা করা উচিত জীবোদ্দশায় অন্তত মনকে এই চতুর্থ ভূমিতে তোলা |
তোমার বয়স অল্প কিন্তু ভগবানলাভের সময়ও অল্প, ১৬ থেকে ৩০---এই রকমই বলেছেন স্বামী ব্রহ্মানন্দ | তোমার মনে হতে পারে এত সব আধ্যাত্মিকতার কথা বলছি কেন | এর কারণ, গাছের গোড়ায় জল দিলে গোটা গাছে জল দেওয়া হয় | একই ভাবে, আত্মশুদ্ধি হলে সমস্ত জীবন শুদ্ধ, সুন্দর, পরিপূর্ণ হয় | আরও বলব পরে |
আশীর্বাদান্তে,
সুগত বোস
No comments:
Post a Comment