বিদ্যা যখন অবিদ্যার সামিল
বিদ্যা যখন অবিদ্যার সামিল
●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●
তাঁর দয়ার অন্ত নেই | ভগবান মানুষরূপ ধারণ করে ছদ্মবেশে এই বাংলায় এলেন আর বাঙালী তাঁকে ফেলে অজ্ঞেয়বাদ আর নাস্তিকতাকে গ্রহণ করল এত সংখ্যায় ? মার্ক্সবাদ বুঝল আর বেদান্ত বুঝল না ? তবু তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন নি | আজও তাই দক্ষিণেশ্বরের কুঠিবাড়ির ছাদ হতে ধ্বনি ওঠে, "ওরে, তোরা কে কোথায় আছিস, আয়, আমি যে আর থাকতে পারি না !" বৈকুন্ঠে আজও তার প্রতিধ্বনি ওঠে, ওঠে না ওই দিগভ্রান্ত বধির বাঙালীর বুকে | সে লেনিন, মাও, মার্ক্সে মশগুল | আজও তাই বিবেকানন্দ পরিত্যক্ত, বেদান্ত বর্জিত, নাস্তিকতার ঢাল করেছে বাকপটু বাঙালী বিদ্যাসাগরের ন্যায় মহাপুরুষকে বারংবার শিখণ্ডী করে, মাত্র তিনি অজ্ঞেয়বাদী ছিলেন বলে, ঔপনিষদিক রবীন্দ্রনাথকে পদে পদে ব্যবহার করে বাঙালী ইন্দ্রিয়পরায়ণতার সপক্ষে বাণীসন্ধানে কারণ কবি "বৈরাগ্যসাধনে মুক্তি, সে আমার নয়" লিখেছেন 'আত্মপরিচয়' গ্রন্থে | মুখে মার্ক্স, বাণী বিপ্লব, কন্ঠে কামনা, ব্যবহারে বাসনা, ইন্দ্রিয় অসংযত, চিত্তে চঞ্চলতা, হতাদর্শ, বাকসর্বস্য বৃহদ্বাঙালী আজ কাপুরুষতার কলেবরপ্রাপ্ত কলরবকাতর জনগোষ্ঠী | তারা যুগাবতারকে কি করে চিনবে ? তাদের দৌড় ওই ভিনদেশীয় আদর্শের অনুকরণ পর্যন্ত, ওই মুখেন মারিতং জগত, ওই বিপ্লববুলি, ঋত্বিক, মৃণাল, সত্যজিৎ, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ও অধুনা রামের বিরোধীতায় রামমোহনের বাণিজ্যব্যবহার, বিজেপি তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে পরাভূত করার অভিপ্রায়ে সীতার অগ্নিপরিক্ষাকে রামের চূড়ান্ত বিফলতা প্রমাণের দুষ্টপ্রচেষ্টায় রামমোহনের সতীদাহপ্রথা নিবারণে ভূমিকার প্রায়শঃ উল্লেখ---এই হল বৃহদ্বাঙালীর ব্যবহারিক বিকৃতির বিশদ বিবরণ | এই আদর্শভ্রষ্ট দুষ্ট বুদ্ধিজীবির দল চিনবে সনাতন পুরুষ শ্রীভগবানকে ? এরা লিঙ্গ-গুহ্য-নাভির ত্রিকেন্দ্রে আবদ্ধ, সনাতন শাস্ত্র মানে মাত্র গোমাংস ভোক্ষণের সপক্ষে যুক্তি আনয়নে, ইসলামের মার খায় সেকিউলারিজ়মের দোহাই দিয়ে, প্রতিক্রিয়াশীলতাকে প্রগতিশীলতার মোহর দিয়ে আত্মপ্রসাদ বোধ করে, স্বাদেশিকতা ছেড়ে প্রাদেশিকতাকে প্রাধাণ্য দেয়---এরা বুঝবে অনন্তের অধিপতি রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দকে ?
রচনা : সুগত বসু (Sugata Bose)
No comments:
Post a Comment