জন্মদিনে প্রণাম, স্বামীজী!
জন্মদিনে প্রণাম, স্বামীজী!
আজ যাঁর জন্মদিন, তাঁকে যেন আর ভুলে না থাকি | আমাদের জন্য ঠাকুর যে নরঋষিকে সপ্তর্ষলোক থেকে এনেছিলেন, যিনি আধুনিক যুগের পুরোধা পুরুষ, সেই মহামানবের জন্মদিন আসে যায় কিন্তু আমাদের তাঁর জীবন ও বাণীর প্রতি মতি ফেরে না---এমন যেন আর না হয় | তাঁর জীবন অনুধ্যানে বিশেষ লাভ | আসুন, তাই করি |
১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি | ভুবনেশ্বরী দেবীর কোল আলো করে বিশ্বনাথপুত্র স্বয়ং বিশ্বনাথের আবির্ভাব এই দিন | শ্রীরামকৃষ্ণের তখন পার্থিব বয়স মাত্র ২৭ আর শ্রীশ্রীমায়োর ১০ | অর্থাৎ, ঠাকুর তখন ঘোর সাধনরত আর মা বালিকা, জয়রামবাটিতে বাড়ছেন কৈশোরের দিকে | পরাধীন ভারতের উদ্ধারকল্পে তথা জগতরক্ষার মহাযজ্ঞসম্পাদনে, অধর্মের নাশ, ধর্মের পুনঃস্থাপন, যুগাবতারের বাণীরূপ প্রসারযন্ত্ররূপে এই মহা আবির্ভাব |
দত্ত পরিবার সম্ভ্রান্ত, দত্ত দম্পতি প্রগতিশীল, উদার মনোভাবাপন্ন | বালক নরেন্দ্রনাথ এই ভাবোৎকর্ষে পরিবর্ধিত যুবা নরেন্দ্রনাথে পরিণত হন | মনে জ্ঞানের বিপুল পিপাসা যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দর্শন-বিজ্ঞানে তৃপ্ত নয় | চাই অপরোক্ষ অনুভূতি | এই তৃষ্ণা তাঁকে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে পরমহংস রামকৃষ্ণের নিকট নিয়ে যায় এবং সেখানেই তাঁর তরঙ্গবিক্ষুব্ধ উত্তাল চিত্তের সমাধি হয় |
১৮৮১র নভেম্বর থেকে ১৮৮৬র অগস্ট পর্যন্ত চলে শিক্ষানবিশি | শেষে কাশীপুরে নির্বিকল্প সমাধিতে পরমপ্রাপ্তি | এরপর গুরুদেবের দেহাবসানে বিবেকানন্দের আবির্ভাব, পরিব্রাজকরূপে ভারত পরিভ্রমণ, কন্যাকুমারিকার অন্তিম শিলাখণ্ডে ত্রিকালের ভারতদর্শন ও ঘনীভূত ভারতরূরে ত্রিকালজ্ঞ যতিরাজের এমেরিকাগমন |
১১ই সেপ্টেম্বর, ১৮৯৩ | শহর শিকাগো | বিবেকানন্দের বিশ্বমঞ্চে আবির্ভাব | সনাতন ধর্মের ধ্বজা পাশ্চাত্যের বুকে উত্তলনপূর্বক সাড়ে তিন বছর পর শিষ্যশিষ্যা সমভিহারে ভারতপ্রত্যাবর্তন | এরপর কলম্বো থেকে আলমোড়া পর্যন্ত বজ্রনিনাদে ভারতবিজয় | ১ মে, ১৮৯৭এ রামকৃষ্ণ মিশন স্থাপন | পরে দ্বিতীয়বার পাশ্চাত্যগমন ও পরিশেষে মায়ের শ্রান্ত সন্তানের ৪ জুলাই, ১৯০২ সালে মহাসমাধিতে মাতৃক্রোড়ে চিরশয়ন |
রচনা : সুগত বোস (Sugata Bose)
No comments:
Post a Comment